হাসানুজ্জামান সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি: একান্ত সাক্ষাৎকারে বীর মুক্তিযোদ্ধা জাফর সাদিক বলেন, দেশের প্রয়োজনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আমার ভাই প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ৫ বারের এমপি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান এর নেতৃত্বে আমি মুক্তিযোদ্ধায় অংশগ্রহণ করি এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে দেশকে পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা করি ।
আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময় ,মুক্তিযুদ্ধ শেষে শিক্ষা জীবন শেষ করে সুদীর্ঘ ৫৫বছর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ লীগের রাজনীতির সঙ্গে কাজ করে আসছি।
আমার জীবনে এখন চাওয়া পাওয়ার আর কিছু নেই। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার ছেলে মেয়েরা মানুষের মতন মানুষ হয়েছে তারা ইঞ্জিনিয়ার,মেজর সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছে। এখন আমার একটাই স্বপ্ন মোহাম্মদপুরে মানুষের সেবা করে শেষ জীবনটা পার করতে চাই।
আমি বর্তমানে দিঘা ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মোহাম্মদপুর উপজেলার উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য।
তিনি বলেন আমি এবার মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। আমার প্রতীক ঘোড়া। আপনাদের সকলের কাছে বিনীত অনুরোধ আমাকে ঘোড়া মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন।
কথাপ্রসঙ্গে তার জীবনের অনেক স্মৃতিময় প্রসঙ্গ উঠে আসে কান্না জর্জিত অশ্রু ঝরা কণ্ঠে বলেন, করোনা কালীন সময়ে আমি ও আমার ছোট ভাই প্রয়াত দীঘা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিরুমিয়াসহ সারা মোহাম্মদপুরের প্রায় ২০০০/২৫০০ পরিবারের আর্থিক ভরণ পোষণের ব্যবস্থা করেছি। অবশেষে ঘাতক করোনা আমার ভাইয়ের জীবন কেড়ে নিল।
সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক দুঃখের কথাও তুলে ধরেন, চলমান রাজনৈতিক জীবনে ১৯৭০ সাল থেকেই কলেজ ছাত্রলীগের এবং চাকুরী জীবনের পুরাটা সময়ই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলাম। চাকুরী পরবর্তী অবসরে আসার পর ২০০৭ সাল থেকে সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সার্বক্ষণিক ভাবে জড়িত থেকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যেতে চাই।
১৯৭৩ সাল হতে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সার্বক্ষণিক থেকে বিজয় নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত কাজ করি।
উপজেলা পদ্ধতি চালু হয় ১৯৮৪/৮৫ সালের শুরুর দিকেই। আমি মহম্মদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ছিলাম কিন্তু তৎকালীন সময়ে জেলা আওয়ামী লীগ কর্তৃক সেই সময়কার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার কারণে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ আমাকে বুঝিয়ে বসিয়ে দেন এবং আমি নজরুল ইসলামের পক্ষে কাজ করি ও তখন থেকেই ঐ পরিবারের সহিত আমার একটা আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়। যা এখন পর্যন্ত বিদ্যমান আছে বলে জানান,নহাটা ইউনিয়নের নারান্দিয়া গ্রামের প্রয়াত নজরুল ইসলামের বড় ছেলে মনিরুল ইসলাম লুলু ।
২০০৯ সালে আবার তিনি মহম্মদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে সতন্ত্র প্রার্থী হলে তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানীকে জেলা আওয়ামী লীগ কর্তৃক দলীয় মনোনয়ন দিলে সেইবারও দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার্থে আমাকে বসিয়ে দিয়ে দলের পক্ষে কাজ করতে নির্দেশ দিলে আমি তা অবনত মস্তকে মেনে নিয়ে দলের পক্ষে কাজ করি।
আবার ঠিক ২০১৯ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা জাফর সাদিক আবারও মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সতন্ত্র প্রার্থী হলে সেই বারও দলীয় মনোনয়ন তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল মান্নানকে নৌকা প্রতীক দিয়ে,সেই বারও উনাকে দলীয় স্বার্থে বসিয়ে দিয়ে দলের জন্য কাজ করতে জেলা নেতৃবৃন্দ নির্দেশ দিলে তিনি তা অবনত মস্তকে আবারও মেনে নিয়ে দলের পক্ষে কাজ করেন। মোট কথা দলীয় স্বার্থে ত্যাগের এমন নজীর বিহীন দৃষ্টান্ত সমসাময়িক কালের ইতিহাসে আমার জানা নেই। আমি একজন সচেতন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জাফর সাদিক কে স্যালুট করি। মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করি যেন আল্লাহ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জাফর সাদিকের দীর্ঘায়ু দান করেন এবং সুস্থ রাখেন ।
তিনি আরও বলেন,এবার যেহেতু কোন দলীয় প্রার্থী নেই আমি আশা করি যেভাবে আমি নিঃস্বার্থভাবে দলের জন্য কাজ করেছি ঠিক তেমনি ভাবে আমি মোহাম্মদপুর বাসীর জন্য কাজ করতে পারি।এছাড়াও মহাম্মদপুর কে মাদক মুক্ত দুর্নীতিমুক্ত স্মার্ট মোহাম্মদপুর হিসাবে গড়ে তোলার জন্য সকলের সাহায্য একান্তকাম্য।
আমি মোহাম্মদপুর বাসীকে আরো প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে উপজেলা পরিষদের সাধারণের সেবা শতভাগ,স্বচ্ছ দুর্নীতিহীন হবে এবং হিসাব-নিকাশ আমি প্রতিমাসে সকল জনগণের সামনে উপস্থাপন করবো।
মোহাম্মদপুরের সর্ব স্তরের জনগণ আমার ঘোড়া মার্কায় ভোট দিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে জয়যুক্ত করবেন। সবার কাছে আবারও দোয়া ও ভোট চাই।