হাফিজুর রহমান, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) থেকেঃ গত সোমবার (৩ জুন) সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী বসন্তপুর কাস্টমসে বিজিবির হাতে আটক হওয়া ১৫ টি গরুর লট নিলামে স্থগিত হওয়ায় পুনারায় গতকাল বুধবার( ৫ জুন) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে আবারও সিন্ডিকেটের কবলে ৮ লক্ষ টাকার ছোট, বড় গরুর ১৫ টি গরুর লট নাটকীয় ভাবে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকায় ফাঁকা মাঠে নিলাম সম্পন্ন করেছে নিলাম কর্তৃপক্ষ। এতে করে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা। স্থগিত হওয়া গত সোমবারের সিন্ডিকেটের নিলাম কার্যক্রম বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে ভিডিওর মাধ্যমে প্রকাশ হলে গাত্রদাহ শুরু হয় নিলাম কর্তৃপক্ষ এবং সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে। নিলাম কর্তৃপক্ষ এবং সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে। গতকাল নিলাম কার্যক্রম শুরুর সময় সিন্ডিকেটের সদস্যরা সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয়ে অকথ্য বাসায় গালিগালাজ করতে থাকে। অবশেষে উপায়ান্তর না পেয়ে নিলাম কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার জন্য বিজিবি এবং পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করে। পরে নিলাম কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে নাম মাত্র সাড়ে ৪ লক্ষ টাকায় নিলাম কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে ডাক সম্পন্ন করে জামাত আলী নামে জনৈক বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে নিলাম দেখালেও কাগজ কলমে চোরা কারবারি শ্যামনগর থানার রমজান নগর ইউনিয়নের তারানি পুর গ্রামের আলমগীর হোসেন বাবুর নামে নিলাম দেখানো হয়। প্রকৃতপক্ষে ১৭ বিজিবি সদস্যরা গত এক সপ্তাহ আগে ভারত থেকে আনা এই ১৫ টি গরু আলমগীর হোসেন বাবুর বাড়ি থেকে আটক করে।এই চোরা কারবারি বাবু তার গরু গুলো নিজেদের আয়ত্তে নিতে গত সোমবার নিলামে ব্যর্থ হয়ে গতকাল দ্বিতীয়বার নিলামে সিন্ডিকেটের এবং নিলাম কর্তৃপক্ষের ম্যানেজ করে নামমাত্র মূল্যে ১৫ টি গরুর লট নিজের আয়ত্তে নিয়ে নেয়।সরে জমিনে দেখা যায় সাড়ে ১২ টার পরে নিলাম কার্যক্রম শুরু হলে সিন্ডিকেটের সদস্যরা যার যার প্যাকেটে টাকা জমা দিয়ে দূরে অবস্থান করতে। নিলাম কার্যক্রমের সময় কাউকে সেখানে না পাওয়া গেলেও মিলন কর্তৃপক্ষ জনৈক মুক্তিযোদ্ধার নামে নীলাম করায়।গত ৩ জুন সোমবার এই নিলাম কার্যক্রমে ভিত্তিমূল্য ৫ লক্ষ টাকার নিচে করা যাবে না ঘোষণা দিলেও গতকাল সে বিষয়টিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকায় নিলাম সম্পন্ন করা হয়। ওই সময় নিলাম কর্তৃপক্ষ এবং সিন্ডিকেট সদস্যরা কোন সাংবাদিককে নিলাম কার্যক্রমের ছবি বা ভিডিও করতে বাধা দেয়। বিষয়টি নিয়ে নিলাম কর্তৃপক্ষের সাতক্ষীরা জেলার কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল হাই এবং গোডাউন পরিদর্শক মাহবুব আলম এবং রাকিব হোসেনের উপস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটলেও তারা কোন পদক্ষেপ না নিয়ে সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে আসে। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করে। ওই সময়১৭ বিজিবির বসন্তপুর বিওপির হাবিলদার মহাসিন এবং থানার উপ পরিদর্শক শুদেব এবং জাহিদ হোসেন সহ পুলিশ বিজিবি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এই নিলাম কার্যক্রমের কাস্টমসের কাগজপত্র নিয়ে চোরাকারবারি বাবু আবারো বেপরোয়া হয়ে ভারত থেকে চোরাই পথে গরু এনে নিলামের কাগজ দেখাইয়ে নিজস্ব গরুর খামার দাবি করবে বলে এলাকাবাসীর ধারণা। এর আগেও এই চোরাকারবারি আলমগীর হোসেন বাবু একাধিকবার জেল হাজাত খেটেছে বলে এলাকাবাসী জানায়। এ প্রসঙ্গে সাতক্ষীরা কাস্টমসের গোডাউন কর্মকর্তা আব্দুল হাইয়ের নিকট জানতে চাইলে তিনি তার সহকর্মী রাকিব হোসেনকে দেখিয়ে দেন এ প্রসঙ্গে গোডাউন পরিদর্শক রাকিব হাসানের নিকট জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে প্রকাশ্যে নিলাম হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান।