Saturday, October 1সময়ের নির্ভীক কন্ঠ
Shadow

হযরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (রঃ) এঁর জীবনী পব-১

তরিকুল ইসলাম লাভলু :: বিংশ শতাব্দির শ্রেষ্ঠ সাধক সুলতানুল আউলিয়া,কুতুবুল আকতাব,গওছে জামান,আরেফ বিল্লাহ,হযরত শাহ্ ছুফী আলহাজ্জ খানবাহাদুর আহছানউল্লা (রাঃ) ছিলেন বাঙালি মুসলমানের অহংকার ও তাঁর কালের আলোকিত পুরুষ।তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলা ও আসামের শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষা সংস্কারক, প্রখ্যাত সাহিত্যিক, ঐতিহাসিক, দার্শনিক, সমাজ সংস্কারক ও আধ্যাত্মগুরু।
ইংরেজ শাষনাধীনে মুসলমানদের সার্বিক জীবনে নেমে আসে বিপর্যয়। সমাজের সর্বক্ষেএে তারা পিছিয়ে পড়ে। সে সময়ে তিনি ছিলেন বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা, সাংস্কৃতি, ধর্ম, সমাজ ইত্যাদি সার্বিক জীবনে পুনর্জাগরণের অগ্রদূত।

সাতক্ষীরা জেলার (তদানীন্তন খুলনা জেলা) নলতা শরীফে ১৮৭৩ সালে ডিসেম্বরের কোন এক শনিবার প্রত্যুষে হযরত খানবাহাদুর আহ্ছানুল্লা (রঃ) জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর জন্মের বহু পূর্ব হতে এ মহান সাধকের আগমন বার্তা পৌঁছেছিল।তাঁর পিতা মুনশী মোঃ মফিজ উদ্দীন একজন ধার্মিক, ঐশ্বর্যবান ও দানশীল ব্যক্তি ছিলেন।তাঁর পিতামহ মোঃ দনেশও একজন ধর্মপ্রাণ ও সম্ব্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন।হযরত খানবাহাদুর আহছানুল্লা (রঃ) ছিলেন পিতামহের একমাএ পুএের জেষ্ঠ সন্তান। ফলে তার শিক্ষার জন্য পিতা ও পিতামহের আপ্রাণ চেস্টা ও আগ্রহ ছিল। তাঁর বয়স পাঁচ বৎসর পূর্ন না হতেই প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়।১৮৮১ সালে তিনি “গ-মিতিয়” (বর্তমান দ্বিতীয় শ্রেণীর সমমান)পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একটি রুপার মুদ্রা পুরস্কার পান। তিনি নলতা মধ্য ইংরেজি বিদ্যালয় হতে ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ও ৬ষ্ঠ ভাগ অধ্যয়ন করেন।এরপর তিনি টাকী গভর্ণমেন্ট হাইস্কুলে চতুর্থ (বর্তমান সপ্তম) শ্রেণীতে ভর্তি হন।১৮৮৮ সালের শেষভাগে কলকাতায় লন্ডন মিশন সোসাইটি ইনস্টিটিউশনে সেকেন্ড ক্লাশে (বর্তমান নবম শ্রেণীতে) ভর্তি হন এবং তিনি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ১৮৯০ সালে কৃতিত্বের সাথে এন্ট্রাস (বর্তমান এস,এস,সি) পরীক্ষয় উত্তীর্ণ হন ও বৃত্তি লাভ করেন।তিনি হুগলি কলেজ থেকে ১৮৯২ সালে এফ,এ (বর্তমানে এইচ,এস,সি) এবং ১৮৯৪ সালে কলিকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে সাফল্যর সাথে বি,এ পাস করন।১৮৯৫ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদীনে দশৃন শাস্ত্রে এম,এ ডিগ্রী লাভ করেন।

চাকরি জীবন ও শিক্ষা বিস্তার
হযরত খানবাহাদুর আহ্সানউল্লাহ (রঃ) ১৮৯৬ সালের ১ আগস্ট রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের “সুপার নিউমারারী” টিচার হিসাবে যোগদান করেন।তিনি অক্টোবর ১৮৯৬ থেকে মার্চ ১৮৯৭ পর্যন্ত ফরিদপুর জেলার রাজবাড়ী মহকুমার স্কুল সাবইন্সপেক্টর পদে অতিরিক্ত ডেপুটি ইন্সপেক্টর হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এক বৎসরের মধ্যেই তিনি পদোন্নতি পান বকেরগঞ্জ জেলার ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে।একাধিক্রমে ৭ বৎসর তিনি বরিশালে অবস্থান করে। ১৯০৭ সালে তিনি চট্রগ্রামের ডিভিশনাল ইন্সপেক্টর পদে নিযুক্ত হন। ১৯১৯ সালে তিনি আবার চট্রগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় ইন্সপেক্টর পদে বদলী হন। এবং দীর্ঘ পাঁচ বৎসর অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এই দায়িত্ব পালন করেন।

হযরত খানবাহাদুর আহ্ছানুল্লা (রঃ)-এর দীর্ঘ চাকরি জীবনে সম্পূর্ণটাই কেটেছে শিক্ষা বিভাগে।তাঁর এই দীর্ঘ সময়ের দিনগুলি ছিল বর্ণাঢ্য, বৈচিএপূর্ণ ও কর্মবহুল। এখানে ছিল মেধা, আন্তরিকতা, নিষ্ঠ, পরিশ্রম ও সাফল্যের সমাহার। একজন সাধারণ শিক্ষক থেকে শিক্ষা বিভাগের সর্বোচ্চ পদে আসন গ্রহণ- পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠার এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমা ছিল সত্যিই অনন্য। অফিসের প্রতিটি দায়িত্ব যথাযথভাবে সম্পাদন করাকে তিনি ধর্ম পালনের অংশ হিসাবে মনে করতেন। তিনি যখন যেখানে যে দায়িত্বে থাকতেন সে অঞ্চলের শি[ক্ষা প্রসারের জন্য সার্বিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতেন।পাশাপাশি সমাজ সংস্কার তথা সমাজের সার্বিক উন্নয়নের প্রতিও তিনি ছিলেন সচেষ্ট। আধ্যাত্মচর্চা ও আধ্যাতিক জীবন যাপনের প্রতি বাল্যকাল থেকেই তাঁর প্রবল আকর্ষন লক্ষণীয়।তিনি রাজবাড়ীর অতিরিক্ত ডেপুটি ইন্সপেক্টর থাকাকালীন পায়ে হেঁটে মফঃস্বলে স্কুল পরিদর্শন করতেন।কখনো কখনো তাঁকে রমজান মাসে ২০ মাইল পর্যন্ত হাঁটতে হয়েছে।তিনি রাজশাহীতে অবস্থান কালে মুসলমান ছাএদের শিক্ষার প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করেন।তিনি নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে সংগ্রামের মধ্যমে মুসলমান ছাএদের জন্য দ্বিতল ছাএাবাস ‘ফুলার হোস্টেল’ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।তাঁরই প্রচেষ্টায় রাজশাহীতে মাদরাসা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। হযরত খানবাহাদুর আহ্ছানুল্লা (রঃ)-এর চাকরি জীবনের একটি বড় অধ্যায় কেটেছে চট্রগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় ইন্সপেক্টর হিসাবে।চট্রগ্রামের দায়িত্বভার গ্রহণ করার কিছুদিনের মধ্যেই বিভাগীয় কমিশনারের প্রস্তাব অনুসারে সদরের সরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোর আবশ্যকতা অনুযায়ী স্থান পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের উদ্দেশ্যে একটি কমিটি গটিত হয়।তিনি ছিলেন সেই কমিটির সেক্রেটারী।এক বৎসরের বেশি সময় ধরে কাজ করে তিনি কমিটির রিপোর্ট প্রস্তুত করেন।বিভাগীয় কমিশনার তাঁর কাজে সন্তুষ্ট হয়ে বেতন বৃদ্ধির জন্য প্রস্তাব করেন।তাঁর পদের গুরুত্ব বিবেচনা করে মধ্যবর্তী দু’টি গ্রেড অতিক্রম করে বেতন ২৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় উন্নীত হয়। চট্রগ্রাম বিভাগের শিক্ষা প্রসারের জন্য তিনি ছিলেন সদা সচেষ্ট ও আন্তরিক। কতৃপক্ষও ছিল তাঁর প্রতি আস্থাশীল।এসময় চট্রগ্রাম বিভাগে যে অর্থ ব্যয় হত অন্য সব বিভাগে সে অর্থ ব্যয় হত না।তাঁর প্রচেষ্টর ফলে চট্রগ্রাম বিভাগে মুসলিম শিক্ষার উল্লেখ্যযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়।

শিক্ষা সংস্কার ও শিক্ষানীতি প্রণয়ন
মহামনীষী হযরত খানবাহাদুর আহ্সানউল্লা (রঃ)-এর শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্তি বাংলার মুসলিম ইতিহাসে এক নতুন মাইল ফলক।এই দায়িত্ব প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে মুসলিম শিক্ষার উন্নতি ও প্রসারের গুরু দায়িত্ব তার উপর আর্পিত হয়। তিনি ও তাঁর মেধা, বুদ্ধিমত্তা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। মুসলিম শিক্ষার প্রতিবন্ধকতা ও অনাগ্রহ দূরীকরণে এবং অগ্রগতি সাধনের অনুকূলে উচ্চ পর্যায়ে নীতি নির্ধারণে তাঁর ভ‚মিকা ছিল অগ্রগন্য। নতুন দায়িত্বে যোগদানের পরপরই তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত স্ক্রীমসমূহ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কলিকাতায় মুসলিম ছাএদের জন্য একটি স্বতন্ত্র কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। হযরত খানবাহাদুর আহ্সানুল্লা (রঃ) দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যই মুসলমানদের জন্য একটি স্বতন্ত্র কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যেগ গ্রহণ করেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামিয়া কলেজ। ইসলামিয়া কলেজ ছাড়াও তিনি বহু স্কুল, কলেজ ও হোস্টেল প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নে সক্রিয় ভ‚মিকা পালন করেন। তাঁরই উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় চট্রগ্রাম মুসলিম হাইস্কুল। ১৯২৮ সালে মোসলেম এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল গার্লস কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেএে তাঁর অবদান প্রশংসনীয়।সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব পালনকালে অত্যাধিক কাজের চাপের মধ্য দিয়েও তাঁকে নীতি নির্ধারণ এবং বিভাগীয় মিটিংসহ প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৩০৯টি বিষয় নিষ্পত্তি করতে হত।পাঁচ বৎসেরর মধ্য এদেশের শিক্ষা বিভাগের বৈপ্লবিক সংস্কার সাধিত হয়। এই মহামনীষীর উল্লেখযোগ্য সংস্কার সমূহ নিম্নরুপ: ১,তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক পরিক্ষার খাতায় পরিক্ষার্থীর নাম লেখার রীতি প্রচলিত ছিল। অনেকের মতে সাম্প্রদায়িকতা বিদ্যমান থাকায় হিন্দু ও মুসলিম পরিক্ষার্থীদের মধ্য পক্ষপাতিত্ব হত। হযরত খানবাহাদুর আহ্সানুল্লা (রঃ)-এর প্রচেষ্টায় প্রথমে অনার্স ও এম.এ পরিক্ষার খাতায় নামের পরিবর্তে ক্রমিক লেখার রীতি প্রবর্তিত হয়। পরবর্তিতে আই.এ এবং বি.এ পরিক্ষার ক্ষেএে পরিক্ষার্থীর নামলেখার রীতি রহিত করা হয়।২, সে সময় হাই ও মাদরাসা থেকে পাশ করে ছাএরা কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেত না। উক্ত মাদরাসাদ্বয়ের শিক্ষার মানউন্নয়ন করেন হযরত খানবাহাদুর আহ্সানুল্লা (রঃ)।ফলে মাদরাসা থেকে পাশ করা ছাএদের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ সৃষ্টি হয়।৩, তৎকালীন সব স্কুল কলেজে তিনি মৌলবির পদ সৃষ্টি করেন এবং পন্ডিত ও মৌলবির বেতনের বৈষম্য রহিত করেন।৪, তখন উর্দুকে হিসাবে গণ্য করা হত না।ফলে পশ্চিম বঙ্গের উর্দ্দূ ভাষী ছাএদের অসুবিধা হত।তাঁরই প্রচেষ্টায় উর্দ্দু সংস্কৃতির স্থান অধিকার করে। ৫, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার খসড়া বিল সিনেট উপস্থাপিত হলে দারুণ বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে তা বিবেচনার জন্য একটি স্পেশাল কমিটি গঠিত হয়। হযরত খানবাহাদুর আহ্সানুল্লা (রঃ) উক্ত কমিটির একজন সদস্য ছিলেন এবং যতদূর সম্ভব তিনি এর আবশ্যকতা সমর্থন করেন।সরকার মুসলিম শিক্ষার ভার হযরত খানবাহাদুর আহ্সানুল্লা (রঃ)-এর হাতে ন্যস্ত করেন। ফলে বহু মক্তব, মাদরাসা, মুসলিম হাইস্কুল এবং কলেজ তাঁরই তত্বাবধনে প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়াও অমুসলিম স্কুলে মুসলিম শিক্ষকের নিযুক্তি এবং অন্যান্য সরকারি বিভাগের মুসলিম কর্মচারি নিয়োগও তাঁর হাতেই ন্যস্ত ছিল। এই সুযোগে স্বতন্ত্র মক্তব পাঠ্য নির্বাচন ও মুসলিম ছাএদের শিক্ষার জন্য একমাএ মুসলিম লেখকের প্রণীত পুস্তুক প্রচলনের নিয়ম প্রবর্তন করেন এবং গভর্ণমেন্টের অনুমোদন নেন।প্রত্যেক মুসলিম বিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হয় এবং প্রত্যেকের জন্য মুসলিম রচিত পাঠ্য পুস্তুকের ব্যবহার প্রচলন হয়।এসময় মখদুমী লাইব্রেরী, প্রভিন্সিয়াল লাইব্রেরী ও পরে ইসলামিয়া লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা লাভ করে।৭, মুসলিম ছাএদিগের জন্য বৃত্তির ধারা নির্দিষ্ট হয়।বিদ্যালয়ের সকল শ্রেণীর বৃত্তি বন্টনের পূর্বে তাঁর মতামত গ্রহণ করা হত।৮, মুসলিম শিক্ষকদের পাঠ্যপুস্তুক লেখার সুযোগ দেওয়া হত।৯, মুসলিম ছাএদের জন্য বেকার হোস্টেল, টেলার হোস্টেল, কারমাইকেল হোস্টেল ও মুসলিম ইনস্টিটিউট কলিকাতার বুকে প্রতিষ্ঠিত হয়।

শিক্ষা নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে হযরত খানবাহাদুর আহ্সানউল্লা (রঃ) মনে করতেন ‘মনুষ্যত্বের বিকাশই শিক্ষার মুখ্য উদ্দেশ্য’।তার মতে প্রত্যেক মানুষের মধ্য লুকায়িত আছে বিপুল সম্ভাবনা।শিক্ষার মাধ্যমে এই সম্ভাবনাকে বিকশিত করা সম্ভাব।শিক্ষার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাঁর প্রণীত ‘টিচারস ম্যানুয়েলে’তিনি লিখেছেন-মনুষ্যত্ব লাভ শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য। মনুষ্যত্ব লাভ করিতে হইলে শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক এই এিবিধ বৃত্তির সম্যক অনুশীলন আবশ্যক। তিনি তাঁর ‘শিক্ষা ক্ষেত্রে বঙ্গীয় মুসলমান’ গ্রন্থে লিখেছেন ‘শিক্ষার দুইটি উদ্দেশ্য-চরিএ গঠন ও জীবিকা সংগ্রহ। শিক্ষাকে তিনি জাতীয় উন্নতির সর্বপ্রধান গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসাবে মনে করতেন।তিনি মনে করতেন জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি এবং সম্পদ জনসাধারণের জ্ঞান। শিক্ষার মাধ্যমেই এই জ্ঞানের বিকাশ সম্ভব। হযরত খানবাহাদুর আহ্সানুল্লা (রঃ) চেয়েছিলেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে সম্পূর্ন আধুনিক।জ্ঞান বিজ্ঞানের সর্বশেষ আবিস্কারের সাথে পরিচিত হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। একজন মানুষ আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের জন্য উপযোগী হয়ে উঠার মত শিক্ষা পাবে। শিক্ষা সংক্রান্ত তাঁর পরামর্শগুলো বর্তমান বাংলাদেশে শিক্ষা সমস্যা সমাধানের পথ নির্দেশ করতে এবং একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে পথিকৃত হতে পারে।

আগামী পর্বে…..
সাহিত্য, মখদুমী লাইব্রেরী, ইতিহাস চেতনা, জীবন দর্শন ও আধ্যাত্মগুরু

শেয়ার বাটন