Sunday, May 22সময়ের নির্ভীক কন্ঠ
Shadow

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পথে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ

সীমান্ত ডেস্ক: ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর। স্বাধীনতা লাভের আগ মুহূর্তে। ওয়াশিংটনে দক্ষিণ এশিয়া পরিস্থিতি ওয়াশিংটন স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের সভা। সভার সভাপতি ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি বা বাস্কেট কেস হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

এরপর বিভিন্ন সময়েও বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি আখ্যা দিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হতো। তলাবিহীন ঝুড়ির সেই বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা-এলডিসি থেকে উত্তরণে জাতিসংঘের সুপারিশ পেয়েছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতিসংঘের তালিকায় আর স্বল্পোন্নত দেশ থাকবে না। উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উঠবে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এটি ছিল একটি বড় অর্জন। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল একটি ভূখণ্ডের, যার নাম বাংলাদেশ।

সবুজের জমিনে রক্তিম সূর্যখচিত মানচিত্রের দেশটি ৫০ বছর পূর্ণ করল আজ। আজ ৫১তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনটি বাংলাদেশের স্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর বছর মুজিববর্ষও। এবার তাই উদযাপনেও যোগ হয়েছে ভিন্ন মাত্রা। স্বাধীনতার ৫১ বছরে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পথে গড়ে উঠছে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

বিশ্লেষকদের মতে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালিকে দুটি মুক্তি দিতে চেয়েছিলেন। একটি স্বাধীন ভূখণ্ড অন্যটি অর্থনৈতিক মুক্তি। স্বাধীনতা এনে দিয়ে তিনি যখন অর্থনৈতিক মুক্তির পথে ছুটেছেন, তখন ইতিহাসের নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। স্বাধীনতার ৫১ বছরে তারই কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে বঙ্গবন্ধুর কাঙ্ক্ষিত দ্বিতীয় স্বপ্ন অর্থনৈতিক মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশ।

১৯৭১ সালে সদ্য স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকার বার্ষিক বাজেট আজ পরিণত হয়েছে ছয় লাখ তিন হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেটে। সে দিনের ১২৯ ডলার মাথাপিছু আয়ের দেশটিতে বর্তমান মাথাপিছু আয় দুই হাজার ৫৯১ ডলার। সময় পেরিয়েছে, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও এগিয়েছে।

মাথাপিছু আয়, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধি, বৈদেশিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও ব্যবহার এবং সম্পদ উৎপাদন ও আহরণ দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আইএমএফের হিসাব মতে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হবে।

১৯৭১ সালে জাতিসংঘ স্বল্পোন্নত, উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশের ক্যাটাগরির প্রচলন করেছিল ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য হওয়ার পর ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকার বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করাতে সক্ষম হয়েছিল স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য প্রযোজ্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা লাভের প্রত্যাশায়, যদিও সাড়ে সাত কোটি জনসংখ্যার কোনো দেশকে সাধারণত এই ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করার নিয়ম ছিল না।

এই ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্তির পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত আশা ছিল, স্বাধীনতা-পরবর্তী চরম সংকটজনক অর্থনৈতিক অবস্থা কাটিয়ে ওঠার পর এক দশকের মধ্যেই বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের পরিচয় ঝেড়ে ফেলে উন্নয়নশীল দেশের ক্যাটাগরিতে উত্তরণে সক্ষম হবে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবার নিহত হওয়ার পর থমকে যায়।

পাকিস্তানি শাষকগোষ্ঠীর ২৩ বছরের শোষণ আর নির্যাতনে পিষ্ট মুক্তিকামী বাঙালি বঙ্গবন্ধুর বজ্রনিনাদ ভাষণে উজ্জীবিত হয়ে ২৬ মার্চ হতে স্বাধীনতার চূড়ান্ত শপথ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এরপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে বাঙালি জাতি। যে মহানায়কের নেতৃত্বে এসেছিল দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে এ বছরও।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জাতীয়ভাবে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে চলতি মার্চ মাসজুড়েই। বঙ্গবন্ধুর জন্মভূমি টুঙ্গিপাড়ায় চলছে নানান কর্মসূচি। ১৯৭৫ সালে সপরিবারে তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তিকেও হত্যা করা হয়। কিন্তু তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতার ৫১ বছরে এসে দারিদ্র্য আর দুর্যোগের বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ আর্থসামাজিক প্রতিটি সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ। এ প্রাপ্তি নিয়েই এবার জাতি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ সমপ্রতি একটি প্রবন্ধে লিখেছেন, বিজয় অর্জনের পর ৫০ বছরের পথচলায় দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। একাত্তরে স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা একটি স্বতন্ত্র দেশ পেয়েছি, আর তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গড়ে তুলতে চলেছি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাঙালির মুক্তির দূত। বঙ্গ বা বাংলার সত্যিকারের আপনজন হয়ে উপাধি পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। অদম্য সাহস আর বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব, ত্যাগ, সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে লাল-সবুজের পতাকা সম্বলিত বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জনক হয়েছিলেন। জাতির পিতার সকল অনুভূতি ছিল এ দেশের মানুষের প্রতি।

তাই তো বাঙালি জাতির প্রতি তার গভীর ভালোবাসা, মমত্ববোধ, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও আদর্শের দ্বারা সমগ্র বাঙালি জাতিকে উজ্জীবিত করে স্বাধীনতা অর্জনের চূড়ান্ত আত্মত্যাগে দীক্ষিত করে তুলেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী নেতৃত্বে পাকিস্তানি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৪ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের স্ফুলিঙ্গে উজ্জীবিত ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি ৭ মার্চ এসেছিল শত বছরের বঞ্চনার শিকার পথ হারানো বাঙালির আলোকবর্তিকা হয়ে। সেদিন একটি কণ্ঠের ধ্বনিতে সুর মেলায় গোটা জাতি, হয় পরাধীনতামুক্ত। আজো প্রতিটি বাঙালি প্রাণে বাজে ৭ মার্চে সে বজ্রকণ্ঠ। সেদিনের ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিশপথে বাঙালি জাতিকে সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করেন বঙ্গবন্ধু। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারত সরকারের আন্তর্জাতিক গান্ধী শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

গত ২২ মার্চ ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে এ পুরস্কারের জন্য বঙ্গবন্ধুর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক গান্ধী শান্তি পুরস্কার দিয়েছে ভারত সরকার। গান্ধী শান্তি পুরস্কার ভারত সরকার থেকে মহাত্মা গান্ধীর নামাঙ্কিত একটি বার্ষিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার। ১৯৯৫ সালে মহাত্মা গান্ধীর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে গান্ধীজির মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভারত সরকার এ পুরস্কার চালু করে। ২০১৯ সালে এ পুরস্কার পেয়েছিলেন ওমানের সুলতান কাবুস বিন সাইদ আল সাইদ।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের আগের রাতে ২৫ মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসের কালো দিন। মানবসভ্যতার ইতিহাসের এক কলঙ্কিত দিন। মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে। বাঙালিদের কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে পাকিস্তানি শাসকদের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতেই চালানো হয় হামলা। পিলখানা, রাজারবাগ, নীলক্ষেত আক্রমণ করে পাকিস্তানি সেনারা। হানাদার বাহিনী ট্যাঙ্ক ও মর্টারের মাধ্যমে নীলক্ষেতসহ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দখল নেয়।

মেশিনগানের গুলিতে, ট্যাঙ্ক-মর্টারের গোলায় ও আগুনের লেলিহান শিখায় নগরীর রাত হয়ে উঠে ভয়াল বিভীষিকাময়। এরপর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে গ্রেপ্তারে পূর্ব মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করলে শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ।

হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের আগে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং যেকোনো মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মুহূর্তের মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়। সেই সময় বাস্তবতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার এই ঘোষণা নথি সংরক্ষণ করা সম্ভব ছিল না। পরবর্তী সময়ে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর ঘোষণার মূল্যবান দলিলটি সেখানে লিপিবদ্ধ হয়েছে এভাবে ‘ইহাই হয়তো আমাদের শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছে, যাহার যাহা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও। শেখ মুজিবুর রহমান। ২৬ মার্চ, ১৯৭১।’

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত বাংলাদেশ ডকুমেন্টসে ওই ঘোষণার পূর্ণ বিবরণ প্রকাশিত হয়েছিল। ঘোষণায় বলা হয়, ‘এই-ই হয়তো আপনাদের জন্য আমার শেষ বাণী হতে পারে। আজকে থেকে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। আমি আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি— যে যেখানেই থাকুন, যে অবস্থাতেই থাকুন এবং হাতে যার যা আছে তাই নিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। ততদিন পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান-যতদিন না দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর শেষ সৈনিকটি বাংলাদেশের মাটি থেকে বহিষ্কৃত হচ্ছে এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হচ্ছে।’

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এদিন ঢাকাসহ সারা দেশে প্রত্যুষে তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়েছে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে।

এ দিবসে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা এবং ঢাকা শহরে সহজে দৃশ্যমান ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিভিন্ন বাহিনীর বাদকদল বাদ্য বাজাবেন।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী প্রদান করেছেন। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এদিন সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। এ উপলক্ষে ইলেকট্রনিক মিডিয়াসমূহ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা; সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান; শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা; মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করবে। এ ছাড়া মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেয়া হবে।

কোস্টগার্ডের জাহাজসমূহ এদিন দুপুর ২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করবে।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মসূচি : মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিএনপিসহ দেশের সব রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষে থেকে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এদিন সূর্যোদয়ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবনে, দলের কেন্দ্রীয় ও সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় প্রতাকা উত্তোলন করবে আওয়ামী লীগ।

সকাল সাড়ে ৬টায় সীমিত পরিসরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন, ৭টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হবে।

মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা হবে। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের একটি প্রতিনিধি দল টুঙ্গিপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন এবং দোয়া ও মিলাদ মাহফিল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।

এছাড়া আগামীকাল ২৭ মার্চ বেলা ৩টায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির পক্ষে থেকে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। ওই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির পক্ষে থেকেও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এ দিন সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুস্পার্ঘ অর্পণ, স্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে শহীদ জিয়ার মাজারে পুস্পার্ঘ অর্পণ এবং বেলা ৩টায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে স্বাধীনতা র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। সব অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব ও দলটির জাতীয় এবং মহানগর উত্তর দক্ষিণের নেতারা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

শেয়ার বাটন

Leave a Reply

Your email address will not be published.