Saturday, June 15সময়ের নির্ভীক কন্ঠ
Shadow

দ্বাদশ নির্বাচন:রাজনীতি যে পথে, ঘর গোছাতে ব্যস্ত আওয়ামী লীগ

ফের ঘর গোছাতে ব্যস্ত আওয়ামী লীগ। দলের ২২তম জাতীয় কাউন্সিল সামনে রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রমে ব্যাপক গুরুত্ব দিয়েছেন দলটির বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। তুলে আনছেন দলের দুর্দিনের ত্যাগী, পরীক্ষিত, পরিশ্রমী ও মেধাবীদের। মূলত আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী করার টার্গেট দলটিতে।

এ জন্য দল গোছানোর কাজে মনোযোগ দিয়েছে দলটি। যদিও দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রম হচ্ছে রুটিন ওয়ার্ক। রুটিন মাফিক যে কার্যক্রম, আওয়ামী লীগ সেই কার্যক্রমে জোর দিয়েছে।

আ.লীগ সূত্রে জানা যায়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চলতি বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় কাউন্সিল। আসন্ন এ কাউন্সিল সামনে রেখে ঘর গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা।

বৈশ্বিক মহামারি করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানাসহ মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিটের সম্মেলনে মনযোগ দিয়েছেন তারা। সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে নেতৃত্বে তুলে আনা হচ্ছে দলের দুর্দিনের ত্যাগী, পরীক্ষিত, পরিশ্রমী ও মেধাবীদের।

বাদ দেয়া হচ্ছে বিতর্কিত, হাইব্রিড, অনুপ্রবেশকারী ও যাদের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতৃত্বাধীন সরকারকে বিতর্কের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। নিরসন করা হচ্ছে দলের অভ্যন্তরে ভাই লীগ, এমপি লীগ ও দ্বন্দ্ব-কোন্দল, বিভক্তি-বিভাজন। মূলত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দলের ২২তম জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে তৃণমূল আওয়ামী লীগকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

আ.লীগের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ। মূলত দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ওই নির্বাচনে জনসমর্থন নিয়ে ফের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার বিপল্প নেই দলটির। এ জন্য চলতি বছর তৈরি করা হবে দলীয় এমপি, মন্ত্রী ও জেলা-উপজেলার শীর্ষ পদধারী নেতাদের আমলনামা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে কোন কোন এমপি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে কোন এমপি কী অর্জন করেছেন! কোন এমপির তৃণমূল আওয়ামী লীগের সাথে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, কোন এমপি জনবিচ্ছিন্ন, সে সব বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন আওয়ামী লীগের বিভাগীয় টিমের দায়িত্বশীল নেতারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক আমার সংবাদকে বলেন, ‘বেশ কিছু এমপি আছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। তারা স্থানীয় সরকারের সবগুলো নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। তাদের সাথে দলীয় নেতাকর্মীদের সুসম্পর্ক নেই। আবার অনেক এমপির বউ, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে রেখেছেন। ওই সব এমপিদের আমলনামা তৈরি করা হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে আওয়ামী লীগকে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগের বিএনপির কৌশল কী হবে, আন্দোলনের নামে দলটির নেতাকর্মীরা অতীতের মতো আগুন-সন্ত্রাস করবে কি-না, নির্বাচনের আগে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি কী হবে, বিএনপিসহ সরকারবিরোধীরা বহির্বিশ্বের কাছে সরকার বিরুদ্ধে নতুনভাবে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার করবে কি-না, সব বিষয়ে নজর রাখার পাশাপাশি সরকারের করা উন্নয়নচিত্র পৌঁছে দিতে হবে সাধারণ মানুষের মাঝে। একই সাথে বহির্বিশ্বের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে ব্যাপক গুরুত্ব দেয়ার চিন্তা করছে আওয়ামী লীগ। সব মিলে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের সাংগঠনিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ পুরোদমে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনার কারণে দীর্ঘ দিন আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম করতে পারিনি। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর থেকে করোনার স্বাস্থ্যবিধি এই কার্যক্রমে আরও জোরদার করা হবে।’

আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রম হচ্ছে রুটিন ওয়ার্ক। রুটিন মাফিক যে কার্যক্রম, করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনে আওয়ামী লীগ সেই কার্যক্রমে জোর দিয়েছে। এই কার্যক্রমের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে প্রতিটি রাজনৈতিক তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে নির্বাচনি প্রস্তুতি নেবে।

শেয়ার বাটন