Monday, February 26সময়ের নির্ভীক কন্ঠ
Shadow

ট্যুর প্যাকেজের নামে প্রতারণা গ্রেফতার-৩

হাসানুজ্জামান সুমন বিশেষ প্রতিনিধি: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ওয়েবসাইটে দেশ ও দেশের বাইরে লোভনীয় ট্যুর প্যাকেজসহ বিভিন্ন সেবা প্রদানের নামে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎকারী চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো-সাইফুল আলম ওরফে অপু, মোঃ আহাদ আলম ওরফে তালহা ও মোঃ আমিনুল ইসলাম। এসময় তাদের হেফাজত থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত ১টি ল্যাপটপ, ১৪টি পাসপোর্ট, ১০টি মোবাইল ফোন, ১৫টি সিমকার্ড, ২টি ল্যান্ডফোন, ১টি ওয়াকিটকি সেট, ১টি সিপিইউ, ৫টি এটিএম কার্ড ও ব্যাংকের ৬টি চেক বই উদ্ধার করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপির ডিবি কম্পাউন্ডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফিংকালে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বিপিএম (বার), পিপিএম (বার)।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, একটি চক্র ফেসবুক পেইজ ও ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিয়ে ভ্রমন পিপাসু ব্যক্তিদের আকৃষ্ট করে। কক্সবাজার, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান এবং দেশের বাইরে মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, দুবাই, থাইল্যান্ড, মালেশিয়া ও সিঙ্গাপুর ভ্রমণের লোভনীয় প্যাকেজের প্রচার চালায়। ভ্রমণ পিপাসু কোন ব্যক্তি তাদের সাথে যোগাযোগ করে ট্যুরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে প্যাকেজের মূল্য হিসেবে অগ্রীম টাকা নেয়। টাকা হাতে পাওয়ার পর প্রতারক চক্র ফেসবুক পেইজ, ওয়েবসাইট ও মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ করে দেয়। এভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে একটি চক্র প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বলে তথ্য পাওয়া যায়। এ ধরনের প্রতারণার শিকার এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বনানী থানায় গত ৪ নভেম্বর একটি মামলা রুজু হয়।
তিনি বলেন, ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের ইনচার্জ অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আশরাফউল্লাহ, পিপিএম-এর নেতৃত্বে মামলাটি তদন্তকালে প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে ভাটারা ও কলাবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
বনানী থানার মামলায় গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে সর্বসাধারণের জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছেন গোয়েন্দা এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, যে কোন ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেইজের পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে লেনদেন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আকর্ষণীয় ও কম খরচের বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ না হয়ে বৈধ লাইসেন্সধারী ট্রাভেল এজেন্সি থেকে সেবা গ্রহণ করা উচিত। প্রতারণাকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির সন্ধান পেলে নিকটস্থ থানায় বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করা। নিজের পাসপোর্ট অন্য কারো হাতে বা হেফাজতে না দেওয়া।

শেয়ার বাটন